হাতের রেখা শুধু নয়, হাতের অন্যান্য অংশ দেখেও মানুষের সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা পাওয়া যায়। অনেকে বলেন হাতে ভবিষ্যৎও লেখা থাকে, এটি অবশ্য আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। তবে পরিচিতদেরকে দেখেছি, তাদের হাতের রেখার সাথে তাদের প্রকৃতি অনেকটাই মিলে যায়। কয়েকটি জিনিস বুঝলে আপনিও হাত দেখে অন্যদের সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেনঃ ১. যারা হাত যত বেশী পরিস্কার, সে ততো বেশী সহজ-সরল। একইভাবে হাতের রেখায় হিজিবিজি যত বেশী হবে, তার মধ্যে জটিলতা ততো বেশী। ২. ব্রেইন লাইন যাদের যত বেশী বড় ও গভীর হবে তারা ততো মেধাবী। এই রেখাটি সোজা হলে লজিক্যাল ব্রেন বেশী ভালো। রেখাটি শেষের দিকে নীচে নেমে গেলে কল্পনাপ্রবণতা বেশী। ৩. হৃদয় রেখা বড় ও গভীর হলে খুব হৃদয়বান। ৪. ব্রেইন লাইন ও হার্ট লাইনের মধ্যে কিছুটা ফাকা থাকলে এবং রেখা দুটি সমান্তরাল হলে আবেগ ও বুদ্ধির ব্যালান্স থাকে। ৫. আয়ু রেখাতে কাটাকুটি থাকলে স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকে। ৬. সূর্যরেখা ভালো থাকলে তারা অল্প চেষ্টাতে বেশী কিছু পেয়ে থাকে। ৭. বুড়ি বা কড়ে আঙ্গুল দেখে বোঝা যায় একজন কতটুকু নমনীয় বা একগুয়ে। যাদের বুড়ী আঙ্গুল সহজে বাকানো যায়, তারা নমনীয় হয়ে থাকে, কিন্তু যারা একগুয়ে তাদের বুড়ি আঙ্গুল সহজে বাকানো যায় না। জেনে নিন প্রেমিকের হাত দেখে তিনি কেমন মানুষঃ নারীরা জেনে রাখুন, আপনার প্রেমিকটি ভবিষ্যতে আপনার সাথে সুব্যবহার করবে নাকি দুর্ব্যবহার করবে তা জানতে তার হাতের দিকে দৃষ্টি দেওয়াটা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এ সংক্রান্ত তথ্য। অদ্ভুত এ গবেষণায় বলা হয়, একজন মানুষের অনামিকার তুলনায় তার তর্জনী যত ছোট হবে, বুঝতে হবে তিনি নারীদের সাথে ততটাই ভদ্র আচরণ করবেন। যাদের অনামিকা এবং তর্জনীর দৈর্ঘ্য প্রায় সমান, অথবা অনামিকার চাইতে তর্জনী লম্বা, তাদের ব্যাপারে সাবধান থাকতে বলা হয়েছে নারীদের। যাদের তর্জনী অনামিকার তুলনায় ছোট তাদের ভদ্রলোক হতে দেখা যায়। তারা নিজেদের সঙ্গিনীর প্রতি মনযোগী হন, বেশি হাসিখুশি থাকেন, সঙ্গিনীকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাড় দিয়ে থাকেন। মন্ট্রিলের ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির ডক্টর ডেবি মস্কোউইটজ এই গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন। তারা ১৫৫ জন নারীপুরুষের আঙ্গুলের দৈর্ঘ্যের তথ্য নেন। আর প্রতিটি মানুষের জন্য তর্জনী ও অনামিকার দৈর্ঘ্যের অনুপাত বের করেন। পরবর্তী ২০ দিন যাবত তাদের প্রত্যেকে সামাজিক ক্ষেত্রে কি আচরণ করে তা দেখা হয়। এ গবেষণায় নারীর আঙ্গুলের দৈর্ঘ্যের অনুপাত এবং আচরণের মাঝে কোনো যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু পুরুষের ক্ষেত্রে যাদের এই অনুপাত কম অর্থাৎ অনামিকার তুলনায় তর্জনী ছোট তাদের আচরণ বেশি ভদ্র হতে দেখা যায়। শুধু তাই নয়, তারা অন্য পুরুষদের সাথে যেমন আচরণ করেন, তার চাইতেও অনেক বেশি নম্র আচরণ করেন নারীদের সাথে। এসব কারণে তাদের সাথে সম্পর্ক রাখা নারীদের জন্য সহজ হয়। এদের সন্তান সংখ্যাও বেশি হতে দেখ যায়। আঙ্গুলের অনুপাত এবং আচরণের মাঝে যোগসূত্র নিয়ে গবেষণা এই প্রথম নয়। এই মাসের শুরুর দিকে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়, যেসব নারীপুরুষের আঙ্গুলের এই অনুপাত কম, তাদের মাঝে একাধিক সঙ্গীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক রাখার প্রবণতা বেশি হয়। ২০১১ সালের এক গবেষণায় বলা হয় এই অনুপাত কম হলে পুরুষের যৌনাঙ্গের দৈর্ঘ্য বেশি হয়। কিন্তু আঙ্গুলের এই অনুপাত এতো গুরুত্বপূর্ণ কেন? অতীতের গবেষণায় বলা হয়, গর্ভে থাকা অবস্থায় একটি ভ্রূণ কি পরিমাণে টেস্টোস্টেরন এবং অন্যান্য পুরুষ হরমোনের সংস্পর্শে আসে তার ওপর নির্ভর করে তার আঙ্গুলের এই অনুপাত। এই একই ধরণের হরমোন আবার মস্তিষ্ক এবং শরীরের অন্যান্য অংশের বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে, যার ফলে বিভিন্ন ধরণের আচরণ ও ব্যক্তিত্ব দেখা যায়।






0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন